সাফল্য পাওয়ার কোনও শর্টকাট পথ নেই
১৬ নভেম্বর ২০১৩ , শনিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নির্ঘাৎ চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেছিল সে দিনের শচীন । সেই অনুভবের সাক্ষী ছিলেন তিনি একা। যা অন্য কারও সঙ্গে শচীন ভাগ করে নিতে পারবেন না। অবশেষে প্রায় সিকি শতাব্দী স্থায়ী শচীন যুগের অবসান হল। শনিবার মধ্যাহ্নে ক্রিকেট থেকে শচীনের চিরবিদায়ের লগ্নে সাক্ষী থাকল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। গ্যাব্রিয়েলের মিডল স্টাম্প উপড়ে দিয়ে মহম্মদ সামি মাত্র ৪৭ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের উপর ইতি টেনে দেন ১৮৭ রানে। ১২৬ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাস্ত করে শচীনের বিদায়ী সিরিজ ভারত জিতে নিল ২-০ তে। অতঃপর পুরস্কার বিতরণের পর শচীনের হাতে মাইক তুলে দিলেন রবি শাস্ত্রী। তখনও ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছেড়ে যাননি একজনও। ‘শচীন...শচীন’ স্লোগান উঠছে চারিদিক । আবেগে কেঁপে উঠল শচীনের গলা।
মাইক হাতে তার প্রথম বাক্য—‘ফ্রেন্ডস, সেটেল ডাউন। নইলে আমি আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ব। এতদিন ক্রিকেট মাঠের ২২ গজের মধ্যে আমার জীবন ছিল । কেন্দ্রীভূত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেই সুন্দর সফরের আজ অবসান হতে চলেছে। ধন্যবাদ জানানোর জন্য । আমার হাতে একটা নামের তালিকা রয়েছে। প্রথম ব্যক্তি যার কাছে আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ তিনি হলেন আমার বাবা, প্রয়াত রমেশ তেন্ডুলকার।উনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন ১৯৯৯ সালে।উনি আমার জীবনে পথ পদর্শক । ওঁ র গাইডেন্স ছাড়া আমি আজ এখানে আপনাদের সামনে এসে দাঁড়াতে পারতাম না।উনি বলেন, “তোমার স্বপ্নকে তাড়া কর। স্বপ্ন পূরণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম, কর। সাফল্য পাওয়ার কোনও শর্টকাট পথ নেই। কখনো হাল ছেড়ো না। এগিয়ে যাওয়ার পথ খুব কঠিন। আজও আমি বাবার অভাব অনুভব করি ''। এরপর শচীন মায়ের সম্পর্ক এও নানা কথা বলেন। শচীনের জীবনে প্রথম কাশ্মিরী উইল কাঠের ব্যাট উপহার দিয়েছিল তার বোন সবিতা । শচীন সেদিন বলেছিলেন আমার জীবনে মেন্টর, ফিলোজফার অ্যান্ড গাইড দাদা অজিত তেন্ডুলকর। এরপর শচীন বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান স্ত্রী অঞ্জলি ,কন্যা সারা এবং পুত্র অর্জুনকে ।
ধোনি বাহিনী ' মোবাইল' গার্ড অব অনার দেন শচীনকে। শচীন বক্তব্য শেষ করার পর তাঁকে কাঁধে
তুলে নেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা । শচীন-এর হাতে ছিল জাতীয় পতকা। জাতীয় পতাকা হাতে কোহলি থেকে ধোনি - ধোনি থেকে শিখর- এর কাঁধে করে মাঠ পরিক্রমণ করলেন মাস্টার।
মাঠ থেকে বেরোনোর আগে আবার ঘুরে পিচের কাছে চলে আসেন শচীন। তারপর প্রণাম জানান ওই ২২গজের পিচটাকে। চোখের কোনে জল নিয়ে আর ঝাপসা চাউনি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন শচীন।
অন্যদিকে ক্রীড়াবিদ হিসাবে প্রথমবার সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন শচীনই । ভারতরত্ন - যা ক্রীড়াবিদ হিসাবে প্রথমবার শচীনই পেলেন। রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র ভারতরত্ন ঘোষণা করেই থেমে থাকলেন না, শচীনকে স্পিরিট অব স্পর্টসমানশিপ এর এক উজ্জল উপকরণ হিসেবে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এই খবর পাওয়া মাত্রই শচীন এই ভারতরত্ন সম্মনটি উৎসর্গ করলেন নিজের মাকে।
এভাবেই ১৬ নভেম্বের ২০১৩ , তারিখে শচীন বিদায় নেয় ক্রিকেট জগৎ থেকে ।
।।লেখাটি ভালো লাগলে প্লিজ লাইক শেয়ার এবং কমেন্ট করবেন।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন