নিজের অজান্তেই ভুল

যতীন এর বন্ধু ছিলো দীপঙ্কর।তিনি পেশায় ছিলেন একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানী র এজেন্ট। তিনি এ গ্রাম থেকে শহর ঘুরে বেশ ভালোই কাটছিল । মাইনে পত্র যা পেত এবং কমিশন যা পেত তা দিয়ে তার মোটামুটি ভালই যেত।একদিন দীপঙ্কের এর বন্ধু যতীন এর বাড়ি এলো।
যতীন: ওহে দীপঙ্কর বাড়ি আছো।দীপঙ্কর বাইরে এলো।
শান্ত ভদ্র লোকটি । সাতে পাঁচ এ থাকে না।
দীপঙ্কর:  ও যতীন। তা ভায়া পথ ভুলে নাকি। যতীন মৃদু স্বরে বললো ভায়া খুব বিপদে পরে তোমার কাছে এসছি। ২০০০ টাকা ধার হিসেবে দেবে পরের মাসেই দিয়ে  দেবো। দীপঙ্কর বললো ঠিক auche ভায়া কোনো চিন্তা নেই।বলে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেলো।২মিনিট পরে বেরিয়ে এসে বললো যতীন একটু আমার সাথে চলো বাড়িতে নেই এখন এতো টাকা। সামনের ATM  
চলো তুলে দিচ্ছি।।২ জনে গেলো সেখানে এবং টাকা তুলে যতীন এর হাতে দিয়ে বললো ঠিক আছে ।আর লাগবে না তো।।
যতীন বললো::: তুমি যে কী উপকার করলে কোনোদিন ভুলবো না। বলে যতীন হন্তদ্ন্ত হয়ে হাঁটা লাগালেন।
 তার বন্ধু যতীন ও ওই একই কোম্পানী র কেরানী র চাকরী করতো।তিনিও যে খুব খারাপ মাইনে পত্র পেত  তা নয়।তবে তার একটা দোষের মধ্যে ছিল সে অফিস থেকে এসে জুয়ার ঠেকে বসত।।বাড়িতে বারন করা সত্ত্বেও সে শুনতো না। এরকম করে অনেক টাকাই হেরেছেন জুয়াতে ।এর ফলে তার বাড়িতে ছিল নিত্য টানাটানি। 
এদিকে দীপঙ্কর  বাড়িতে একা থাকে। পরিবার থাকে গ্রামে । পেটের দায় সে কলকাতায় একা থাকে । মাইনে পত্র যা পায় কিছু ব্যাংক এ রেখে জমায় এবং মাসের শেষে তুলে বাড়ি তে দিয়ে আসেন। যদি না যেতে পারতেন বউএর একাউন্ট এ ফেলে দিতেন। মাসের শুরু ১তারিক  হঠাৎ করে দীপঙ্করের মনে পড়লো
যতীন::  আগের মাসে যতীন বলেছিল না  এই মাসে ২০০০ টাকাটা দেবে। হয়ত ২_৩ দিন পরে দেবে। ভালোই হলো ওটা পেলে আর ব্যাংক এ ফেলবনা।।
এমন সম়ই ফোন বেজে উঠল , ফোনটা তুলে হেলো বলতেই ওপর থেকে একটা লোক মৃদু স্বরে সুন্দর ভাবে বললন স্যার আমি ব্যাংক থেকে বলছি, দীপঙ্কের বাবু বলেছেন 
হ্যা বলুন,
বলছি আপনার একাউন্ট নাম্বার টা কি ৬৬৭৪৪....
হ্যা তাই,
স্যার আমাদের ব্যাংক এর টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য 
কিছু জিনিষ ডিলিট হয়ে গেছে ।
আপনাকে কিছু বলতে হবে না আপনার কার্ডের পেছনেই ৩ সংখ্যার নম্বরটি বল্লেই হবে ।
দীপঙ্কর এর তখন  খুব তাড়া ট্রেন ধরার জন্যে।
 ভালো ক্লাইন্ট পাওয়া  গেছে খুব তাড়াতাড়ি তার কাছে যেতে হবে।। আগে পিছে না ভেবেই, দীপঙ্কের পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে ATM card  বার করলো এবং দেখে নম্বর টি বললেন ৬ ...৭.. 
সাথে সাথে তার ফোন টা কেটে গেলো । দীপঙ্কর ঘুরিয়ে যেকোন ফোন করতে গেলো তখন অপরপ্রান্ত থেকে বিপ বিপ শব্দ করে কেটে গেলো। ট্রেনও চলতে শুরু করল । 
দীপঙ্কর যখন ট্রেন থেকে নামলো তখন দীপঙ্করের কাছে ব্যাংক থেকে একটা ম্যাসেজ এলো এবং তাতে একটা OTP   এলো , কিছু ভাবার আগেই  ফোন টা বেজে উঠলো। দীপঙ্কর দেখলো আগের নম্বর টি দেখাচ্ছে যেটা ব্যাংক থেকে এসেছিল।চটপট ফোন টাকে ধরলেন । অপরপ্রান্ত থেকে আবার একই লোক বললেন এক্ষুনি আপনার ফোন এ যে OTP টা গেছে সেটা তারাতারি দেন ।নয়ত আপনার অ্যাকাউন্টটা ব্লোক হোয়ে যেতে পারে । তাড়াহু়োতে কোনো কথা না ভেবেই OTP টা বলে দিলেন । অপর প্রান্ত বলে উঠলো Thankyou sir।
যে স্বর ভেসে আসছিলো দীপঙ্করের কেমন একটা চেনা চেনা লাগলো ।কোনো কিছু ভাবার আগেই ব্যাংক থেকে  ম্যাসেজ ঢুকলো। দেখেতো দীপঙ্করের চক্ষু চড়কগাছ।
এতদিনের কষ্টাজির্ত টাকা প্রায় পুরো টাই কেটে নিয়েছে।যে নম্বর থেকে ফোন এসছিল সেটাতে বার বার ফোন করতে লাগল দীপঙ্কর।কিন্তু বিপ বিপ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাওয়া গেলো। তড়িঘড়ি ব্যাংকে ফোন করলেন কিন্তু ব্যাংক থেকে বললেন আমরা তো  কোনো ফোন করিনি  আপনাকে । দীপঙ্কর সব খুলে বললেন ব্যাংক ।।ওরা বললেন আপনি একটা থানায় ডায়রি করুন ।। তারপর তো আমরা দেকছি।  একাউন্ট ব্লক করলো ব্যাংক থেকে ।ATM card ও ব্লক করলো ।
দীপঙ্কর সেদিন আর ক্লাইন্টের সাথে দেখা করলেন না। সে ট্রেন ধরে আবার ফিরে এলেন এবং তড়িঘড়ি থানায় গেলেন সব বল্লেন এবং ডায়রি ও করলেন। পুলিশ জানালেন যথাসাধ্য চষ্টা করবো আপনার টাকাটা ফেরানোর। দীপঙ্কর পরের দিন অফিস গেলেন এবং যতীনের কাছে সব বল্লও যতীন কেমন একটা না শোনার মতো ভান করছে।।সেটা দেখে দীপঙ্কর বেশী কিছু বলল না। শুধু বলল আমার টাকাটা একটু দিবি বাড়িতে কিছু পাঠাতে হবে। ওরাও তো আসা করে বসে আছে।
যতীন বললো হ্যাঁ এক্ষুনি দিচ্ছি বলে পকেট থেকে টাকা বের করে কড়কড়ে ৪ টে ৫০০ র নোট হাতে দিয়ে বললেন আর একটু বেশী করে নিয়ে রাখবে। পরের মাসে মাইনএ পেলে দেবে। দীপঙ্কর বললো না না থাক সেরকম হলে আমি পরে আবার নেব।। হাজার কাজের মাঝে দীপঙ্কর এর সেদিন এর কথা মনে পড়ে। চেনা 
স্বর এর কথা তার মনে পড়ে এবং সেটা কে নিয়ে মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে । সেই দিনটা বেশ মনখারাপ এর মধ্যে দিয়েই যায়। অফিস থেকে বেরোতে যাওয়ার সময় কিছু খাকি পোশাকের পুলিশ এলো আচ্ছা এখানে যতীন বাবু কে আছেন । অফিস এর ম্যানেজার বললো যতীন কে একটু ডেকে ডেকে দাওতো । ম্যানেজার পুলিশকে জিজ্ঞেস করে কী হইছে ,। উত্তরে জানায় পরে সব জানতে পারবেন । এই বলে যতীনকে নিয়ে চলে যায় থানায় । 2 দিন যতীন এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।২ দিন পর দীপঙ্করের কাছে ফোন আসে।
থানা থেকে বলছি দীপঙ্কর বাবু বলছেন।
হ্যা বলছি
আপনার টাকা কে নিয়েছে তাকে ধরা গেছে
কে সে
ই নি হলেন আপনার বন্ধু যতীন ।
যতীন।
হ্যা,উনি কিছু ব্যাংক জালিয়াতি করে এমন লোকের সাথে মিলে আপনার টাকাটা আত্মসাৎ করেছে। আমরা দেখছি আপনার টাকাটা খুব তাড়াতড়িই ফেরৎ দেওয়ার চেষ্টা করছি ।
সেদিনের পুলিশের কথা শুনে কিছুক্ষন এর জন্য চুপ করে বসে রইল।তার ১ দিন পরেই ব্যাংক থেকে ফোন এলো আপনার টাকাটা পুরোটাই ফেরৎ পেয়েছেন
আর হ্যা ব্যাংক কোনোদিন আপনাকে ফোন করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্মর ,ATM  পিন , OTP ও
জিজ্ঞেস করবে না।কেউ যদি কোনোদিন করেও দয়াকরে ফোনটা কেটে দেবেন বা থানায় যোগাযোগ করবেন। এই বলে ফোন টা রেখে দিলেন।
যতীন এর খবর এর পরে আর কেউ নেয়নি।জানিনা শেষ এ কী হলো তার।তবে সেইদিন র পর থেকে  কাউকে  একাউন্ট নম্বর বলার আগে দীপঙ্কর খুবই চিন্তায় পরে যেত। ভাবতো এই বুঝি কিছু হয়ে গেলো।

।।গল্পটি র চরিত্র ও ঘটনা পুরোটাই কাল্পনিক।। কাউকে ছোট করা বা অসম্মান করার জন্য এটি লেখা হয়নি।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

স্যামসাং নিয়ে আসলো খুবই সস্তায় এবং বড় ডিসপ্লের সাথে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ।। Samsung G A01 Core

ওয়ানপ্লাস থেকে ওয়ানপ্লাস এবং ওয়ানপ্লাস থেকে অন্য ফোনে ডেটা ট্রান্সফার করার উপায়___

।। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং দুর্দান্ত ক্যামেরার সাথে নতুন কিছু অসাধারণ কালারের সাথে Samsung লঞ্চ করলো Samsung Galaxy Note 20 ।।

।। 'মোস্ট অ্যাওয়ার্ডেড স্কুটার অফ ইন্ডিয়া' তকমাও পাওয়া TVS NTORQ 125 এর নতুন এডিশন লঞ্চ হলো RACE EDITION ।।

আসুন,আজকের আমরা জেনে নেব ২০০ টাকার কম কোন প্রিপেড প্ল্যানগুলি আছে এবং তাদের সময়সীমা কতদিনের

"২০২৪ সালে নতুন মোবাইল লঞ্চ: সেরা ফিচার ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সাথে বাজারে আসছে একাধিক ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন"